
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবারও বার্তা এসেছে যে ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে চায়। একই সঙ্গে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় চীনের সহায়তা গ্রহণেও যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুক্রবার (১৫ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা নিয়মিতভাবে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের বার্তা পাচ্ছেন। বিষয়টি বর্তমানে কূটনৈতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নয়াদিল্লি থেকে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, এ সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং সংঘাত চলাকালে ইরানকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আব্বাস আরাগচি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যেকোনো দেশের সহায়তাকে ইরান স্বাগত জানায়, বিশেষ করে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি আরও জানান, চীনের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই চীন যদি আলোচনার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা তেহরান ইতিবাচকভাবে দেখবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনা দ্রুত নিরসনের জন্য তারা শুরু থেকেই কূটনৈতিক উদ্যোগে কাজ করছে। তাদের মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় এবং সমাধান শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্বার্থের জন্যও জরুরি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে প্রথম দফা আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি স্বীকার করেন, মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং দুই পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে পরিস্থিতি বর্তমানে জটিল পর্যায়ে রয়েছে।