
প্রচণ্ড গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা আখের রস অনেকের কাছেই তাৎক্ষণিক স্বস্তির উৎস। রাস্তার মোড়, বাজার বা ফুটপাতে গ্রীষ্ম এলেই এই জনপ্রিয় পানীয়ের দেখা মেলে। সহজলভ্য ও কম দামের কারণে অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে আখের রস বেছে নেন।
আখের রসে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও থাকে। গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি ও শক্তি বের হয়ে যায়, আখের রস তা কিছুটা পূরণ করতে পারে। এজন্য অনেকেই এটিকে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক হিসেবে বিবেচনা করেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আখের রসের উপকারিতা নির্ভর করে এর প্রস্তুত প্রক্রিয়ার ওপর। রাস্তার অনেক দোকানে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানা হয় না। আখ পিষার মেশিন দীর্ঘ সময় পরিষ্কার না থাকলে সেখানে ধুলা, ময়লা ও জীবাণু জমে যেতে পারে।
এছাড়া অনেক সময় ব্যবহৃত পানি বা বরফও বিশুদ্ধ থাকে না। খোলা পরিবেশে রস রাখার কারণে ধুলাবালি, মাছি ও দূষিত বাতাস থেকে জীবাণু মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে তৈরি করা রস দীর্ঘ সময় রেখে পরে বিক্রি করা হয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে।
এর ফলে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, টাইফয়েড কিংবা জন্ডিসের মতো রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, আখের রস নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা হলে এটি গরমে শরীরের জন্য উপকারী পানীয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মূল বিষয় হলো সচেতনতা। পরিষ্কার পরিবেশে তৈরি ও নিরাপদ উৎস থেকে নেওয়া আখের রস খাওয়া হলে এটি গ্রীষ্মের একটি সতেজ ও উপকারী পানীয় হতে পারে।