
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি পেতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
শনিবার (১৬ মে) প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন, জাপান ও পাকিস্তানসহ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জাহাজ চলাচলের পর এবার ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ এ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে সীমিত করে দেয় তেহরান। পরে ৮ এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও প্রণালীতে আগের মতো স্বাভাবিক চলাচল এখনো ফেরেনি।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হয়ে থাকে। ফলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরে নিজস্ব নৌ অবরোধ আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীনের জাহাজসহ কয়েক ডজন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।
রেভল্যুশনারি গার্ডস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরানের প্রণালী ব্যবস্থাপনা প্রটোকল’ নিয়ে সমঝোতার পর এসব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নতুন ‘পেশাদার ব্যবস্থা’ প্রস্তুত করেছে তেহরান, যা খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার আওতায় শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোই বিশেষ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সেবার জন্য ফিও আরোপ করা হবে।
আজিজি আরও জানান, তথাকথিত ‘ফ্রিডম প্রজেক্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য এই নৌপথ বন্ধই থাকবে। এতে তিনি হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত দেন।