
আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-কে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের একাংশের অভিযোগ, জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর উপস্থিতি আগের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো নিদর্শন অপসারণ বা ধ্বংস করা হয়নি; বরং বাংলাদেশের ইতিহাসকে নতুনভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণাগার। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে আগের মতো আলাদা গ্যালারি বা দৃশ্যমান উপস্থাপনা এখন আর নেই। বিশেষ করে ৭ মার্চের ভাষণ, ছয় দফা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকার পর্যাপ্ত উপস্থাপনা না থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
জাদুঘরের কিপার ও পাবলিক এডুকেশন বিভাগের প্রধান আসমা ফেরদৌসী বলেন, বঙ্গবন্ধু কর্নারের কিছু উপকরণ নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে সরিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন নষ্ট করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জানান, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসকে গবেষণাভিত্তিক ও ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাদুঘরকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে ভিডিও উপস্থাপনা, অডিও গাইড ও ডিজিটাল কনটেন্ট যুক্ত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গাইডেড ট্যুর চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে পৃথক ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ চালুর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে আজ জাতীয় জাদুঘরে র্যালি, আলোচনা সভা, বিশেষ প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।