
পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলের জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজন ব্যক্তি আমিরাতকে ইরানের ‘লাভান’ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এবং জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
খবরে আরও বলা হয়, গত এপ্রিলের শুরুতে আমিরাত নাকি ওই দ্বীপে একটি গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ এখনো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ আমিরাতকে সরাসরি বলছে— “যাও, দ্বীপটি দখল করো।” বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য হতে পারে সরাসরি মার্কিন সেনা জড়িত না করে আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করা।
এদিকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়। এর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানায়। আমিরাতও সেই উত্তেজনার বাইরে ছিল না।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লাভান দ্বীপকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।