
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাসে সিনিয়র কর্তৃক জুনিয়রকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকপ্রশাসন এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
জানা যায়, রবিবার বিকেলে ঝিনাইদহগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুমতি বাসে প্রথম ঘটনার সূত্রপাত হয়। লোকপ্রশাসন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে গান ও কথাবার্তা বলছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে বায়োটেকনোলজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী তাদের শান্ত হতে বলেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে মারধরের ঘটনায় রূপ নেয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে রাতের বাসে করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফেরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দুই পক্ষ আগে থেকেই অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে বাস পৌঁছালে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দুপক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও আহত হন।
পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয় এবং কিছু স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের সহপাঠীকে প্রথমে মারধর করা হয় এবং পরে প্রতিহত করতে গেলে আবারও হামলার শিকার হন তারা। অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, প্রথম ঘটনায় তাদের পক্ষের ভুল ছিল এবং পরে সমঝোতার উদ্দেশ্যে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরবর্তীতে দুই পক্ষের প্রতিনিধি ও বিভাগীয় শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়। প্রক্টরের ভাষ্যমতে, রাত আড়াইটা পর্যন্ত আলোচনার পর পরিস্থিতি মীমাংসা হয়। উভয় পক্ষ ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মুচলেকা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।