প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 19, 2026 ইং
দক্ষিণ কোরিয়াকে হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিলো যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও সিউলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদিত এই সামরিক চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২৪টি ‘রোমিও’ সিহক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার কিনবে। অত্যাধুনিক এই হেলিকপ্টারগুলো মূলত সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি স্থলভিত্তিক হামলা পরিচালনার সক্ষমতাও রয়েছে এতে।
এছাড়া প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার এপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বহর আধুনিকায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার সক্ষমতার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এই এপাচি ইউনিটগুলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তিগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য সামরিক শক্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সহায়তায় আরও ৩৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বিদেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন ও সামরিক ব্যয়ের ভার ভাগাভাগি নিয়েও তিনি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন।
যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শর্তহীন সংলাপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সামরিক চুক্তি পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।