
ইউক্রেন যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই তিন দিনের বৃহৎ পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই সামরিক মহড়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা ও অত্যাধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা অংশ নিচ্ছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরকে ঘিরেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই মহড়া চলবে। এতে পারমাণবিক শক্তির প্রস্তুতি, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলার কৌশল অনুশীলন করা হবে।
ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সামরিক অভিযানের পুরো সময়জুড়ে রাশিয়া বারবার নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিভিন্ন সময়ে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্টের সমাপ্তির পর এই মহড়া নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনেক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে যায়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই মহড়ায় ৬৫ হাজারের বেশি সেনা এবং প্রায় ৭ হাজার ৮০০ ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে।
মহড়ায় অংশ নিচ্ছে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও করা হবে বলে জানিয়েছে মস্কো।
এছাড়া রাশিয়ার মিত্র দেশ বেলারুশে মোতায়েন করা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যৌথ প্রশিক্ষণও এই মহড়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাশিয়া ইতোমধ্যে বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশের সীমান্তঘেঁষা অবস্থানে থাকায় বেলারুশের কৌশলগত গুরুত্বও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বৃদ্ধি এবং পশ্চিমা সমর্থনের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া এই মহড়ার মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার শক্ত বার্তা দিতে চাইছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দু’দিনের চীন সফর শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই এই মহড়ার ঘোষণা আসে। ফলে সামরিক প্রদর্শন ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই ক্ষেত্রেই মস্কো বর্তমানে সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।