
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার দেওয়া এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ঘটনার মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে।
পোস্টের শুরুতেই মাহফুজ আলম লেখেন, “আওয়ামীলীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই?” এরপর তিনি আওয়ামী লীগকে শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি “ধর্মতত্ত্ব” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সেই বিশ্বাস ও প্রভাব আবারও সমাজে ফিরে এসেছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের চেতনার বিপরীতে দাঁড় করানো, ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং “মব কালচার”-এর বিস্তার আওয়ামী লীগের ফিরে আসার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের নির্যাতিত জনগণের একটি অংশ আইনের শাসনের পরিবর্তে জনতার বিচারকে সমর্থন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, মাজারে হামলা, ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চাপ এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নীরবতা আওয়ামী লীগের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে ডানপন্থার উত্থান নিয়ে আতঙ্কও আওয়ামী লীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফুজ আলম অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, কাঠামোগত সংস্কারের পরিবর্তে সীমিত সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের মতো উদ্যোগ জনগণকে হতাশ করেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং তথাকথিত “কিচেন ক্যাবিনেট”-নির্ভর নীতিনির্ধারণও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে ছাত্ররাজনীতি, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরেন মাহফুজ আলম। তার মতে, গণতান্ত্রিক চর্চার বদলে সংঘাতমুখী রাজনীতি, নতুন মিডিয়ার বিকাশে বাধা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভাজনমূলক প্রবণতা আওয়ামী লীগের জন্য নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা ও রাজনৈতিক দরকষাকষির কারণে সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রভাববলয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মাহফুজ আলম ইঙ্গিত দেন, আওয়ামী লীগের “ফিরে আসার” পেছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সে তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।