
জন্মগত বিরল শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত শিশুকন্যা হাবিবার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের শিশু হাসপাতালে। জন্মের পর থেকেই দুই মাড়ি ও চোয়াল একসঙ্গে যুক্ত থাকায় মুখ খুলতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারছিল না শিশুটি। কঠিন এই পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)।
মঙ্গলবার সকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম শিশুটির প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি অপারেশন প্রয়োজন হলেও সফল এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন জেডআরএফের পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ। তিনি জানান, এমন বিরল রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল। তবে ধাপে ধাপে চিকিৎসা সম্পন্ন হলে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে বলে আশাবাদী চিকিৎসকরা।
অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে শিশুটির মা দিলরুবা আক্তার মেয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, ডা. জুবাইদা রহমানের নামের সঙ্গে মিল রেখে এখন থেকে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জুবাইদা’।
জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও দিলরুবা আক্তারের ঘরে গত এপ্রিলে জন্ম নেয় শিশুটি। প্রথম সন্তান জন্মের আনন্দ দ্রুতই দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়, যখন চিকিৎসকরা জানান শিশুটির দুই মাড়ি ও চোয়াল জন্মগতভাবে যুক্ত। ফলে শিশুটি মুখ খুলতে পারত না এবং সিরিঞ্জ ও নাকের নলের মাধ্যমে তাকে দুধ খাওয়ানো হতো।
দারিদ্র্যের কারণে গার্মেন্টসকর্মী বাবার পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়।
অপারেশন প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করেন জেডআরএফের সদস্য ডা. এম. আর. হাসান। সার্জারি টিমের নেতৃত্ব দেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এছাড়া অ্যানেসথেসিয়া টিমের নেতৃত্বে ছিলেন শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আকতার হোসেন লোবান।
শিশু হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. খালিদ মাহমুদ শাকিল সার্বিক সহায়তা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে গঠিত মেডিকেল টিমের সফল এই অস্ত্রোপচারকে চিকিৎসকরা দেশের জন্য একটি বিরল সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শিশুটির মা-বাবা চিকিৎসা সহায়তার জন্য জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।