
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে দেন টাইগার বোলাররা। বিশেষ করে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
দিনের শুরুতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের জুটি পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাজিদ খানকে আউট করে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। এরপর সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেও থেমে যান রিজওয়ান। শরিফুল ইসলামের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৯৪ রানে বিদায় নেন তিনি। এরপর দ্রুতই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে।
শেষদিকে খুররাম শেহজাদ শূন্য রানে আউট হন এবং মোহাম্মদ আব্বাস অপরাজিত থাকলেও দলকে রক্ষা করতে পারেননি। ফলে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৩৫৮ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রানের বিনিময়ে ৬টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া নাহিদ রানা নেন ২টি উইকেট, আর একটি করে উইকেট পান শরিফুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করে, যেখানে লিটন দাস সেঞ্চুরি করেন। জবাবে পাকিস্তান ২৩২ রানে অলআউট হয়, ফলে বাংলাদেশ ৪৬ রানের লিড পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান করে বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় ৪৩৭ রানের। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৩৫৮ রানে।
এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি টাইগারদের প্রথম সিরিজ জয়।