
মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরান আবারও ড্রোন উৎপাদন শুরু করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের সামরিক শিল্পের বড় অংশ সচল করে ফেলে। মার্কিন গোয়েন্দাদের পূর্বের ধারণার তুলনায় ইরানের এই পুনরুদ্ধারের গতি অনেক বেশি বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং অস্ত্র তৈরির কারখানার বেশিরভাগই ইতোমধ্যে পুনর্নির্মাণ করেছে ইরানি বাহিনী। এতে করে ইরানের সামরিক শক্তি দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়বে—এমন ধারণা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ মনে করেছিল, ড্রোন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ইরানের দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে নতুন তথ্য বলছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোন হামলা পরিচালনার সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।
এদিকে পেন্টাগন ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ইরানের সামরিক শিল্প ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করলেও সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধবিরতির সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা অনেক সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের হাতে এখনো বিপুল সংখ্যক ড্রোন মজুত রয়েছে, যা তাদের মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যবহৃত উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বড় অংশও অক্ষত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সহযোগিতা এবং নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে ইরান খুব দ্রুত ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে সফল হয়েছে।