
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টমাস ম্যাসি কেন্টাকির প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলকে রিপাবলিকান দলের ভেতরে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ম্যাসি পরাজয় মেনে নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থান এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এর আগে ইন্ডিয়ানা ও লুইজিয়ানাতেও ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান নেওয়া কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার নির্বাচনী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারা নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছিলেন।
ম্যাসির বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয় এবং ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী এড গ্যালরিন–এর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
এবারের কেন্টাকি প্রাইমারি নির্বাচনকে জাতীয় পর্যায়ে ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মধ্যেও রিপাবলিকান ভোটারদের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব কতটা রয়েছে, সেটিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
টমাস ম্যাসি ইরান ও ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান বিরোধিতা, ইসরাইলকে সহায়তা নিয়ে সমালোচনা এবং জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়েন।
নির্বাচনের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ম্যাসি অভিযোগ করেন, বিপুল অর্থ ব্যয় ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তবে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ম্যাসির পরাজয় প্রাপ্য ছিল। তার এমন মন্তব্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।