
ঈদুল আজহা সামনে এলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ঋণ থাকলে কি কোরবানি করা যাবে, নাকি আগে ঋণ পরিশোধ করা জরুরি? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হয় এমন ব্যক্তির ওপর যিনি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং নির্ধারিত সময়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। তবে কারও ওপর যদি এমন ঋণ থাকে, যা পরিশোধের পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় না। এ অবস্থায় ঋণ পরিশোধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে ফিকহের কিতাবগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।
ফিকহবিদদের মতে, ঋণ পরিশোধের পরও যদি কারও কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। সে ক্ষেত্রে কোরবানি না করলে তা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ঋণ থাকা অবস্থায় কেউ কোরবানি করলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে, কারণ ঋণ পরিশোধ ও কোরবানি দুটি আলাদা বিধান।
আলেমরা আরও বলেন, কারও ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে গেলে যদি হাতে নগদ অর্থ না থাকে, তবে প্রয়োজনে ঋণ নিয়েও কোরবানি আদায় করা যেতে পারে। পরে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে শুধুমাত্র নফল কোরবানির জন্য ঋণ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
যদি কেউ কোরবানির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরবানি আদায় না করেন, তাহলে ফিকহ অনুযায়ী একটি মাঝারি মানের ছাগলের সমমূল্য অর্থ সদকা করার কথা বলা হয়েছে।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কেউ যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
নিসাব নির্ধারণে স্বর্ণ, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসার পণ্য এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের মূল্য হিসাব করা হয়। স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি নিসাব হিসেবে ধরা হয়। এসব সম্পদের মোট মূল্য যদি রুপার নিসাবের সমান হয়, তাহলে কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।
ফিকহের কিতাবগুলোতে বলা হয়েছে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা গুনাহের কাজ হতে পারে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের কাছেও না আসে—এ ধরনের কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কোরবানির আগে নিজের ঋণ, আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক প্রয়োজন ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।