
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলেও উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন রেকর্ড স্থাপন করে সেই চাহিদা পূরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, টানা চতুর্থ দিনের মতো বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সেদিন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী নয়াদিল্লিতে তাপমাত্রা ছিল ৪৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ২৭০ দশমিক ৮২ গিগাওয়াটে, যা সরকার সফলভাবে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগের দিন বুধবার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ২৬৫ দশমিক ৪৪ গিগাওয়াট, যা ছিল আগের রেকর্ড।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তীব্র গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও অন্যান্য শীতলীকরণ সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক উৎস থেকে আসে। তথ্য অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে তাপবিদ্যুৎ থেকে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে এসেছে ২২ শতাংশ এবং বায়ু ও জলবিদ্যুৎ থেকে প্রায় ৫ শতাংশ করে উৎপাদন হয়েছে। বাকি অংশ এসেছে অন্যান্য উৎস থেকে।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হলেও ২০৭০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এখনো দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপকভাবে কয়লার ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে উৎপাদন বাড়লেও বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার ও ট্রান্সফরমারের ওপর চাপ বাড়ায় কিছু এলাকায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভারতে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সাধারণত তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা যায়। ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশে এটি একটি নিয়মিত জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তর প্রদেশের বান্দা শহরে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সপ্তাহের শুরুতে সেখানে তাপমাত্রা আরও বেশি, ৪৮ ডিগ্রির ওপরে পৌঁছেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘ ও তীব্র হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।