
গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে যখন চারপাশ ভ্যাপসা গরমে ভরে থাকে, তখন চুলের সমস্যাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ধুলোবালি, ঘাম আর আর্দ্রতার কারণে চুলে খুশকি, রুক্ষতা ও ডগা ফাটা সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে চুলের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
গরমে বাইরে বের হওয়ার আগে চুল ও স্ক্যাল্পে হালকা সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এটি চুলকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
এছাড়া গরমে খোলা চুল না রেখে বেঁধে রাখা ভালো। স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করলে ধুলো ও সরাসরি রোদ থেকে চুল রক্ষা পায় এবং অস্বস্তিও কমে।
চুলের যত্নে শ্যাম্পুর সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নারকেল, শিয়া বাটার বা আর্গান অয়েল বেজড শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্যাম্পু সরাসরি চুলে না লাগিয়ে প্রথমে স্ক্যাল্পে হালকা ম্যাসাজ করে ফেনা তৈরি করে পরে চুলে লাগিয়ে ধুয়ে ফেললে চুল কম রুক্ষ হয়।
গরমে ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে অনেকেই প্রতিদিন শ্যাম্পু করেন, তবে এটি চুলকে আরও শুষ্ক করে তুলতে পারে। তাই সপ্তাহে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
চুলের পুষ্টি ধরে রাখতে নারকেল, অলিভ ও আমন্ড অয়েল দিয়ে নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করা উপকারী। সাত থেকে চৌদ্দ দিন পরপর হালকা তেল ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং রুক্ষতা কমে।
অনেক সময় গরমের কারণে চুল ছোট করে কেটে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে, এতে চুল সামলানো সহজ হয় এবং গরমেও আরাম পাওয়া যায়।
দীর্ঘ চুল সারাক্ষণ বেঁধে রাখাও ঠিক নয়। এতে স্ক্যাল্পে ঘাম জমে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মাঝে মাঝে চুল খুলে বাতাসে শুকাতে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভেজা চুল কখনোই শক্ত করে বাঁধা ঠিক নয়, এতে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চুলের যেকোনো বড় সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চর্ম ও চুল প্রতিস্থাপন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তারা চুলের অবস্থা অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের নির্দেশনা দিতে পারেন।