
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে পরিস্থিতিকে ঘিরে ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে সামরিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। কিছু সেনা সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সাময়িকভাবে পুনর্বিন্যাসের কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করা যায়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত কিছু পরিকল্পনা বাতিল করে ওয়াশিংটনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, “সরকারি দায়িত্ব” পালনের কারণে তিনি পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, যা চলমান পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অবস্থান। তারা দাবি করেছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে উত্তেজনা আরও জটিল আকার নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং ইরানের নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বহু নাবিক জাহাজে আটকা পড়ে মানবিক সংকটে রয়েছেন, যেখানে খাদ্য ও পানির ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। কাতারের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। একইসাথে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও তেহরান সফর করেন, যেখানে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনায় অংশ নেন বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক আরও অস্থিতিশীল হতে পারে।