
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। ঈদযাত্রায় সড়কে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বিজিএমইএর নির্ধারিত রোস্টার অনুযায়ী, রোববার (২৪ মে) থেকে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে আজ ১০৮টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা মোট কারখানার প্রায় ৬ শতাংশ।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে ছুটি পাবে ৬৬৪টি কারখানা, যা মোট কারখানার প্রায় ৩৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কারখানায় ছুটি কার্যকর হবে ২৬ মে। ওই দিন ৭১৩টি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হবে, যা মোট কারখানার প্রায় ৪৩ শতাংশ। এছাড়া ২৭ মে আরও ২৫১টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই রোস্টার তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকরা স্বস্তিতে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবেন এবং ঈদের পর সহজে কর্মস্থলেও ফিরতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ কারখানায় ইতোমধ্যে শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। যেসব কারখানায় এখনো বেতন-বোনাস দেওয়া হয়নি, সেগুলোও আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের প্রণোদনা সহায়তা সময়মতো পাওয়ায় তুলনামূলক দুর্বল কারখানাগুলোও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া অনেক কারখানা চলতি মে মাসের অগ্রিম বেতনও পরিশোধ করেছে, ফলে শ্রমিকরা বাড়তি স্বস্তি নিয়ে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে পারছেন।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীচাপ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত হয়ে উঠছে দেশের প্রধান পরিবহন কেন্দ্রগুলো।