
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নদীপথে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাত্রীচাপ সামাল দিতে সদরঘাট টার্মিনালে অতিরিক্ত লঞ্চ প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সদরঘাটে মোট ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে, সেখানে ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে।
লঞ্চ মালিকদের দাবি, যাত্রী আকৃষ্ট করতে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কম দামে কেবিন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। সরকারি হিসাবে একটি সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৭১৬ টাকা হলেও বর্তমানে তা ১ হাজার ২০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
নৌপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পন্টুন এলাকার আশপাশে ছোট নৌকার চলাচল নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সদরঘাট এলাকায় নৌ পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুন পর্যন্ত চারটি বিশেষ টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, টহল ব্যবস্থার বাইরে কোনো নৌযান যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হকারমুক্ত টার্মিনাল, ফ্রি কুলি সেবা এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রী পূর্ণ হলে লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না বলেও কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনামুক্ত ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করাই এবারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।