
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন আসিম মুনির। শনিবার সকালে তেহরান-এ অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের বিষয় গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরান সবসময় আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলার পক্ষে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা নিয়ে ইরান এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের মূল লক্ষ্য দেশের জনগণের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা।
মাসউদ পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বকে একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। তার মতে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমেই মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রকৃত সংহতি গড়ে তোলা সম্ভব।
বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থার কথাও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন চুক্তি ভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সংঘাতময় নীতির কারণে ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের জনগণের আস্থা কমে গেছে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ কখনোই কোনো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। বরং সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল আঞ্চলিক বিভাজনকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনা দ্রুত এমন একটি সমাধানে পৌঁছাবে যা পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক হবে।
আসিম মুনির বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়লে তার সুযোগ নেয় ইসরাইল। তাই আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তেহরানও ইসলামাবাদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং নতুন সংঘাত এড়াতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আসিম মুনিরের এই তেহরান সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।