ভেনিজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলের বারিনাস শহরের একটি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ রোববার নিজেদের হাতে নিয়েছে কয়েক শ’ বন্দী। নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলে তারা কারাগারের পরিচালকের অপসারণ দাবি জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বন্দীরা কারাগারের ছাদে উঠে “আর নির্যাতন নয়” স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় কারাগারের ভেতরে আগুন জ্বালানো তোশক ও চাদর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
বিক্ষোভরত বন্দীরা “এসওএস” এবং “তারা আমাদের ওপর নির্যাতন করছে” লেখা ব্যানার টানিয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে বারিনাস জুডিশিয়াল ডিটেনশন সেন্টার ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা।
কারাগারের বাইরে উদ্বিগ্ন অবস্থায় অপেক্ষা করতে দেখা যায় বন্দীদের স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেলের ভেতরে বন্দীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
ইয়েলিৎসা অ্যারোলো নামের এক নারী জানান, গত ৮ মে থেকে তিনি তার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। তার দাবি, বন্দীদের মারধর, ঠান্ডা পানি ঢালা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা এবং আগুন দিয়ে পোড়ানোর মতো ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংসতায় বেশ কয়েকজন বন্দী আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ভেনিজুয়েলান অবজারভেটরি অব প্রিজনস (ওভিপি) জানিয়েছে, বারিনাস কারাগারের প্রায় ১২০০ পুরুষ ও শতাধিক নারী বন্দী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, কারাগার পরিচালনাকারী মন্ত্রণালয় বন্দীদের অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দীদের লক্ষ্য করে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভেনিজুয়েলার কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দীসংখ্যা, খাদ্য সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছেন।
গত এপ্রিলে রাজধানী কারাকাসের কাছাকাছি কড়া নিরাপত্তার ইয়ারে-৩ কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছিল সরকার।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশের প্রধান কারাগারগুলোতে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব কারাগারের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।