
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও দীর্ঘ অচলাবস্থার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তিনটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল আবারও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর পাকিস্তান ও চীনের উদ্দেশ্যে দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)বাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে একটি ইরাকি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপার ট্যাংকার প্রায় তিন মাস আটকে থাকার পর উপসাগরীয় জলসীমা ত্যাগ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে যাত্রা করা ‘ফুওয়ারিত’ নামের একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে প্রণালি অতিক্রম করে পাকিস্তানের দিকে রওনা হয়েছে। বাহামা পতাকাবাহী জাহাজটি আগামী মঙ্গলবার গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আরেকটি গ্যাসবাহী জাহাজ ‘আল রাইয়ান’ বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী জলসীমা পার হয়ে চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি ২৭ জুন নাগাদ চীনের বন্দরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ‘ঈগল ভেরোনা’ নামের একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি ত্যাগ করে পূর্ব চীনের নিংবো বন্দরের দিকে যাত্রা করেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি বসরা তেল পরিবহন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান নির্দিষ্ট নৌরুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের নির্দেশ দেয়। চলতি সময়ে সীমিত সংখ্যক বড় জাহাজ উপসাগর ছাড়লেও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি।
এর আগে গত সপ্তাহে তিনটি বড় ট্যাংকার প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিক এখনো আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।