
ঈদুল আজহা ঘিরে কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য অনেকেই ডিপ ফ্রিজ ব্যবহার করেন। তবে শুধু ফ্রিজ কেনাই যথেষ্ট নয়, সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা ঠিক না থাকলে মাংসের স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য ডিপ ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা হওয়া উচিত মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে। এই তাপমাত্রায় মাংস দীর্ঘ সময় নিরাপদ থাকে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
নতুন মাংস দ্রুত জমাতে চাইলে প্রথম ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রাখা যেতে পারে। এরপর সেটি আবার মাইনাস ১৮ ডিগ্রিতে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এভাবে সংরক্ষণ করলে মাংস ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ভালো থাকতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত অনেক ডিপ ফ্রিজে সরাসরি ডিগ্রি সেলসিয়াস উল্লেখ থাকে না। সেখানে সাধারণত ১ থেকে ৭ পর্যন্ত স্কেল অথবা মিনিমাম ও ম্যাক্সিমাম অপশন দেখা যায়। এ ধরনের ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য সাধারণত ৪ বা ৫ নম্বর সেটিং ব্যবহার করাকে উপযুক্ত ধরা হয়।
ডিপ ফ্রিজ মূলত সাধারণ রেফ্রিজারেটরের তুলনায় অনেক কম তাপমাত্রায় খাবার সংরক্ষণ করতে সক্ষম। বাজারে প্রধানত দুই ধরনের ডিপ ফ্রিজ পাওয়া যায়—চেস্ট ফ্রিজার ও আপরাইট ফ্রিজার। চেস্ট ফ্রিজারে বেশি পরিমাণ খাবার রাখা যায়, আর আপরাইট ফ্রিজারে তাক থাকায় খাবার গোছানো ও ব্যবহার করা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপ ফ্রিজ কেনার সময় শুধু ধারণক্ষমতা নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বায়ু চলাচল এবং ডিফ্রস্ট সুবিধা আছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণই দীর্ঘদিন নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে পারে।
ফ্রিজারে জমে থাকা বরফ অপসারণের প্রক্রিয়াকে ডিফ্রস্ট বলা হয়। আধুনিক অনেক ডিপ ফ্রিজে অটো ডিফ্রস্ট বা ফ্রস্ট-ফ্রি প্রযুক্তি থাকে, যেখানে জমে থাকা বরফ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গলে পানি বের হয়ে যায়।
তবে ম্যানুয়াল ডিফ্রস্ট ফ্রিজারের ক্ষেত্রে প্রথমে ফ্রিজ বন্ধ করতে হয়। এরপর বরফ স্বাভাবিকভাবে গলে গেলে খাবার বের করে ফ্রিজারের ভেতরের বরফ পরিষ্কার করতে হয়। যদিও এই পদ্ধতি কিছুটা সময়সাপেক্ষ, তবে নিয়মিত পরিষ্কার করলে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা ও খাদ্যের মান দুটোই ভালো থাকে।