
ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। টানা ও মাঝারি বৃষ্টিতে হাটের মাঠগুলো কাদা-পানিতে একাকার হয়ে গেছে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গরুর বেপারী ও ক্রেতারা।
রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দামের ব্যবধান এখনো রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাদা-পানির দুর্ভোগ, যানজট এবং অব্যবস্থাপনা, যা হাটের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঢাকায় এবার মোট ২৭টি পশুর হাট বসেছে, যার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটির অধীনে ১১টি হাট রয়েছে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে বেচাকেনা চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে শেষ মুহূর্তে বৃষ্টির কারণে হাটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, আবহাওয়া ভালো হলে বিকেলের দিকে বেচাকেনা আবারও বাড়বে।
হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার গরু রাজধানীতে এসেছে। বড় ট্রাক, পিকআপ ও মিনি ট্রাকে পশুবাহী যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতেও যানজট দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে গাবতলী ও দিয়াবাড়ী হাটে গত এক সপ্তাহ ধরে গরু আসা অব্যাহত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার ভোররাতের বৃষ্টির কারণে হাটের মাঠগুলোতে হাঁটু থেকে গোড়ালি সমান কাদা জমে যাওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মিরপুরের কালশী হাটে ছাউনি থাকায় তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে উত্তরা দিয়াবাড়ী হাটে পশুর সারি সড়ক পর্যন্ত চলে আসায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কিছু সমস্যা হলেও নিরাপত্তা, আলো, পানি ও ভেটেরিনারি সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসব ব্যবস্থা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
সব মিলিয়ে বৃষ্টি ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ঈদের আগ মুহূর্তে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।