
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে সোমবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাদের আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এদিন মামলাটির অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গত ২৪ মে মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে গত রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কঠোর শাস্তির বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় থাকবে।
উল্লেখ্য, নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকালে অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহবশত ওই বাসার সামনে গেলে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সোহেল রানার শোবার ঘরে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতিতে মাথা পাওয়া যায়।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার আগে মাদক সেবনের বিষয়েও উল্লেখ করে।