
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকেই এই শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বেলা ১১টার দিকে শুনানি শুরু হওয়ার কথা। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে তারা আদালতের হাজতখানায় অবস্থান করছেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনের এই পর্যায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আদালতে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ পাবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই ধাপ শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে মঙ্গলবার মামলায় টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। তাদের জবানবন্দিসহ অন্যান্য সাক্ষ্যের মাধ্যমে আদালতে ঘটনার বিস্তারিত ও মর্মান্তিক চিত্র উঠে আসে।
গত ১ জুন আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না।
গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে অভিযুক্তরা কৌশলে তাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে খুঁজতে গিয়ে তার মা অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পান।
পরবর্তীতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বাথরুমের একটি বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত স্বপ্নাকেও উপস্থিত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।
আদালতে আজকের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হলে মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এরপর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে রায়ের দিকে অগ্রসর হবে বিচারিক কার্যক্রম। বহুল আলোচিত এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।