
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল এখন ইউরোপে পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড নিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। বহুল আলোচিত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর যোগদানের মধ্য দিয়ে অবশেষে সম্পূর্ণ দলকে একসঙ্গে পেয়েছেন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। এতে সান মারিনোর বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের আগে দলের প্রস্তুতিতে যোগ হয়েছে নতুন গতি ও আত্মবিশ্বাস।
আগামী ৫ জুন সান মারিনো জাতীয় দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে কয়েক দিন আগে থেকেই ইউরোপে অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। শুরুতে মূল স্কোয়াড সেখানে পৌঁছানোর পর পর্যায়ক্রমে সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ দলে যোগ দেন। সবশেষে মঙ্গলবার রাতে হামজা চৌধুরীর আগমনে পূর্ণতা পায় লাল-সবুজের শিবির।
দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য সান মারিনো পৌঁছানোর পর প্রথম দিন খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধারমূলক অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে ম্যাচকেন্দ্রিক নিবিড় প্রস্তুতি। কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বল নিয়ন্ত্রণ, ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা এবং ম্যাচ পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ইউরোপের ভিন্ন আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও রয়েছে দলের সামনে। সফরের শুরুতে অপেক্ষাকৃত শীতল আবহাওয়া পেলেও পরদিন তাপমাত্রা ছিল অনেকটাই বাংলাদেশের মতো উষ্ণ। ফলে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কাজও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনায়।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত অনুশীলনে ফুটবলারদের মধ্যে ছিল বাড়তি উদ্দীপনা ও মনোযোগ। ইউরোপের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চান সবাই। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর উপস্থিতি দলের ভেতরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রতিপক্ষ সান মারিনোকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না প্রধান কোচ থমাস ডুলি। তাঁর মতে, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াই সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা সান মারিনোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত করেছে।
ডুলি মনে করেন, এই ম্যাচ শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়; বরং ভবিষ্যতের বড় আসরগুলোর জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ইউরোপের পরিবেশে নিজেদের সক্ষমতা মূল্যায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ফুটবলে হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি ইতোমধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলে যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডারের উপস্থিতি শুধু মাঝমাঠকেই শক্তিশালী করেনি, বরং পুরো দলের মনোবলও বাড়িয়েছে। এখন সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।