
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা দূর করেছেন লিওনেল মেসি। তবে বিশ্বকাপ জয়েই থেমে নেই তার যাত্রা। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সামনে অপেক্ষা করছে একের পর এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।
আসন্ন টুর্নামেন্টে মাঠে নামলেই মেসি গড়বেন নতুন এক বিশ্বরেকর্ড। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিলে সেটিই হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসর। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এতবার বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি খুব কম ফুটবলারেরই রয়েছে। একই মাইলফলকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ারও।
তবে শুধুমাত্র অংশগ্রহণের রেকর্ড নয়, বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার তালিকাতেও নিজের নাম উজ্জ্বল করার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। বর্তমানে এই রেকর্ডটি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজার দখলে, যার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদো নাজারিও করেছেন ১৫ গোল।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত ১৩ গোল করেছেন মেসি। ফলে ক্লোজার রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন মাত্র তিনটি গোল। বর্তমান সময়ের সক্রিয় ফুটবলারদের মধ্যে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
যদিও এই লড়াইয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপে ১২ গোল করে তিনি পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকে স্পর্শ করেছেন এবং ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ওঠার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টের রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে মেসিকে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৮। কিংবদন্তি পেলের ১০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র তিনটি অ্যাসিস্ট।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইতোমধ্যেই নিজের করে নিয়েছেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচ খেলে তিনি ইতিহাসের শীর্ষে উঠে যান। এবার সেই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
আর্জেন্টিনা যদি আবারও ফাইনালে জায়গা করে নেয়, তাহলে বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনটি ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তিও গড়তে পারেন তিনি। যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য অধ্যায় যোগ করবে।
এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবরও মিলেছে। সামান্য চোট নিয়ে দলে যোগ দিলেও মেসির প্রথম ম্যাচ খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও আঙুলের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে হাঁটুর সমস্যার কারণে কিছুদিন বাইরে থাকা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও অনুশীলনে ফিরেছেন। ফলে ধীরে ধীরে পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড পাচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার রেকর্ডের নতুন অভিযানে নামতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করতে তার সামনে অপেক্ষা করছে নতুন এক মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে নতুন কোনো মাইলফলকের সাক্ষী।