
ভারতীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অনলাইনে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে এসব পোস্ট ব্লক বা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অনলাইন পোস্টে দাবি করা হচ্ছিল যে সিঙ্গাপুর ধীরে ধীরে ভারতীয়দের দ্বারা ‘অধিকৃত’ হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এসব কনটেন্টের উৎস সম্ভবত চীনভিত্তিক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো ছড়িয়ে পড়ে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়াতে লিটল ইন্ডিয়ার জনাকীর্ণ এলাকা এবং প্যাগোডা স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত একটি ধর্মীয় উৎসবের ছবি ও ভিডিও বেছে বেছে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব উপস্থাপনার মাধ্যমে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উপস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
সরকারের মতে, এ ধরনের কনটেন্ট সিঙ্গাপুরের বহুসাংস্কৃতিক ও সম্প্রীতিনির্ভর সমাজব্যবস্থার জন্য হুমকি। কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বা এক গোষ্ঠীকে অন্য গোষ্ঠীর মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেছে প্রশাসন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, উগ্র জাতীয়তাবাদ, অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এবং বিদেশি উৎস থেকে পরিচালিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। বিশেষ করে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্টকে গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দেশটির আইনমন্ত্রী Edwin Tong জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এসব পোস্ট কোনো বিদেশি সরকারের সমন্বিত প্রচারণার অংশ—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশি কিছু নেটিজেনের ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমেই এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনলাইন বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর তার কঠোর অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট করেছে।