প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 7, 2026 ইং
চীনের ২৩ খাতে সহযোগিতা প্রস্তাব, সফরে চুক্তির সম্ভাবনা
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে ২৩টি খাতে বিস্তৃত সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কাঠামোর আওতায় এই সহযোগিতা আর শুধু সড়ক, সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, সবুজ উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বহুমাত্রিক খাতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (এনডিআরসি) ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ বিআরআই সহযোগিতা পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠিয়েছে। পরবর্তীতে এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। লক্ষ্য—প্রধানমন্ত্রীর চলতি মাসের চীন সফরের আগেই চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত করা।
এই খসড়া পরিকল্পনা ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে শান্তি, উন্মুক্ততা, পারস্পরিক লাভ এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২৩টি খাতের মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতিকে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অর্থনীতি সহযোগিতা উদ্যোগে’ যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
খসড়া পরিকল্পনায় তিস্তা প্রকল্পের সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও পানি সম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ বিষয়ে আলাদা আলোচনা বা নতুন ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বাংলাদেশকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলা যেমন—চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো, চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার এবং চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে অংশগ্রহণ বাড়ানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিবেশ সুরক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কম-কার্বন উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে।
শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে নিয়মিত চীনা ভাষা শিক্ষা ফোরাম আয়োজন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের বিনিময় এবং থিংক-ট্যাংক পর্যায়ে সংলাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা প্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্য ও ওষুধশিল্পে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা মহামারির পর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
কূটনীতিকদের মতে, বিআরআই এখন আর শুধু অবকাঠামো উন্নয়নকেন্দ্রিক নয়; বরং প্রযুক্তি, ডিজিটাল সংযোগ ও তথ্যভিত্তিক অর্থনীতিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com