
আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্ট্রিট লাইটের আলোয় নতুন রূপ পেয়েছে লালমনিরহাট শহর। উন্নত বিশ্বের আধুনিক নগরীর আদলে নির্মিত এই আলোকসজ্জা শুধু শহরের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং নাগরিকদের রাতের চলাচলকে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে।
লালমনিরহাট পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শহরের রেল স্টেশন থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ৫৪টি খুঁটির ওপর আধুনিক নকশার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি খুঁটিতে ১৩টি করে সুদৃশ্য লাইট বসানো হয়েছে, যা রাতে পুরো সড়ককে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত করে।
এই আলোকসজ্জা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। স্থানীয়দের মতে, আগে সন্ধ্যার পর সড়কটির অনেক অংশ অন্ধকারে ঢাকা থাকত। বর্তমানে আধুনিক সড়কবাতির কারণে রাতেও দিনের মতো উজ্জ্বল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক জালাল উদ্দিন জানান, আগে রাতে রেল স্টেশন থেকে মিশন মোড় পর্যন্ত চলাচলে অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা অনুভূত হতো। নতুন স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পর এখন অনেক বেশি স্বস্তিতে গাড়ি চালানো যায়।
পথচারী জুয়েল রানা বলেন, কর্মব্যস্ত দিন শেষে অনেকেই সন্ধ্যায় হাঁটাহাঁটির জন্য এই সড়ক ব্যবহার করেন। আগে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় চলাচলে সমস্যা হতো, কিন্তু এখন আলোকিত পরিবেশে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে লালমনিরহাটকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট শহরে রূপান্তরের কাজ চলছে। রাজশাহী শহরের আদলে শহরটিকে আরও আকর্ষণীয়, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে এই বিশেষ লাইটিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে এই ধরনের আধুনিক স্ট্রিট লাইট পুরো শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক সড়কবাতি শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং অপরাধ প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা এবং নাগরিক জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লালমনিরহাটের এই উদ্যোগ তাই স্থানীয়দের কাছে ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।