
নরওয়ের রাজকুমারী মেটে-মারিট (৫২) গুরুতর ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের (লাং ট্রান্সপ্ল্যান্ট) তালিকায় রয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তার চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত অবনতি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজপ্রাসাদ থেকে জানানো হয়, রাজকুমারী সব ধরনের সরকারি ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বিরতি নিয়েছেন। এমনকি আগামী আগস্টে তার বিয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্ধারিত অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে তিনি ‘পালমোনারি ফাইব্রোসিস’ নামের একটি বিরল ও জটিল ফুসফুস রোগে ভুগছেন। এই রোগে ফুসফুস ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়, ফলে অক্সিজেন প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং রোগীর শ্বাসকষ্ট মারাত্মক আকার ধারণ করে।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, গত তিন মাসে তার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণত এই ধরনের ট্রান্সপ্ল্যান্ট তালিকায় এমন রোগীদেরই রাখা হয়, যাদের অস্ত্রোপচার ছাড়া বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব সীমিত। তবে সফল চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত ডোনারের ওপর নির্ভর করছে।
সম্প্রতি তাকে অক্সিজেন সাপোর্টসহ জনসমক্ষে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
রাজপরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের সদস্যরাও দায়িত্ব থেকে বিরতি নিয়েছেন। তার স্বামী যুবরাজ হাকন জাপান সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন এবং তার মেয়ে ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা মায়ের পাশে থাকতে অস্ট্রেলিয়ার পড়াশোনা স্থগিত করেছেন।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবনের চাপও তার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। তার সৎপুত্র মারিয়াস বোরগ হোইবি বর্তমানে ধর্ষণ মামলায় বিচারাধীন, যার রায় আগামী ১৫ জুন ঘোষণার কথা রয়েছে।