
ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
আল জাজিরার তেহরানভিত্তিক প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভ্যাল জানান, রাজধানী তেহরানে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে ইসফাহান ও তাবরিজ শহরেও বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। এসব ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে রাতের আঁধারে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল।
এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানো হলে তার জবাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে সর্বশেষ এই হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ পূর্বে দাবি করেছিল, তারা উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী বা দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
চলমান সংঘাতের পেছনে লেবাননের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বিশেষ করে দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় হামলার প্রতিক্রিয়াতেই তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়।
তবে সর্বশেষ হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।