
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশজুড়ে ৬০৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা সুশাসন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রবিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ একটি সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ ও এপ্রিলে শুধু খুন নয়, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা অপরাধও বেড়েছে। এই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ৪৯৬টি এবং ধর্ষণ ও গণধর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রশাসনিক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে অগ্রগতি না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও চুরি-ছিনতাই অব্যাহত থাকার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের প্রসঙ্গেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব, মামলা প্রত্যাহার ও ভিন্নমতের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ মনে করে, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, নইলে দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হতে পারে।