
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ‘ফিফথ ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীটির দাবি, হামলায় বিমানঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারও রয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ও ব্যাপক জবাব দেওয়া হবে। তাদের দাবি, সংঘাত এখনো চলমান এবং প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বাহিনীর ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান ছিল ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের সমানুপাতিক জবাব’। অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের হামলার সময় ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার মধ্যে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।