
বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার প্রহর গুনছে ফুটবল বিশ্ব। শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে আলোচনা এখন তুঙ্গে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির স্কোয়াডে রয়েছে বিশ্বমানের তারকা ফুটবলার, তবে দলীয় ভারসাম্য ও বিভাগভিত্তিক শক্তিতে কিছু পার্থক্যও স্পষ্ট।
গোলরক্ষক বিভাগে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং ব্রাজিলের আলিসন বেকার—দুজনই বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। তবে বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স, মানসিক দৃঢ়তা এবং পেনাল্টি শুটআউটে অসাধারণ দক্ষতার কারণে মার্তিনেজকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর প্রভাব আর্জেন্টিনার জন্য বড় শক্তি।
রক্ষণভাগে ব্যক্তিগত মান ও গভীরতার দিক থেকে ব্রাজিল এগিয়ে। মারকিনিওস, ব্রেমার ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের মতো ডিফেন্ডারদের উপস্থিতি দলটিকে বাড়তি শক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের মূল ভরসা অভিজ্ঞতা ও সমন্বয়। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও নিকোলাস ওতামেন্দির জুটি বড় ম্যাচে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে বহুবার।
মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার আধিপত্য স্পষ্ট। এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রদ্রিগো দি পলের ত্রয়ী বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল এবং রক্ষণ-আক্রমণের ভারসাম্যে তারা বিশেষভাবে কার্যকর। তুলনায় ব্রাজিলের মিডফিল্ডে অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা থাকলেও ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
আক্রমণভাগে দুই দলই ভয়ংকর। তবে স্কোয়াডের গভীরতা ও বিকল্প খেলোয়াড়ের মান বিবেচনায় ব্রাজিল সামান্য এগিয়ে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, নেইমার, এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো তারকারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল কেন্দ্র লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে লাওতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের সমন্বয় দলটিকে অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে গোলরক্ষক ও মাঝমাঠে আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও রক্ষণ ও আক্রমণভাগে ব্রাজিলের বাড়তি শক্তি রয়েছে। তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের লড়াই হলে তা হতে পারে সমানতালে জমে ওঠা এক মহারণ।