
বিশ্বজুড়ে শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধুলোবালি, নির্দিষ্ট কিছু খাবার এবং ঋতু পরিবর্তনের কারণে অনেক শিশুই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, একজিমা বা অ্যাজমার মতো সমস্যায় ভুগছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় শিশুদের অ্যালার্জি কমানোর ক্ষেত্রে নতুন ও কার্যকর একটি উপায় উঠে এসেছে।
নতুন একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক সময়ে কিছু সহজ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে শিশুদের অ্যালার্জির ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। বিশেষ করে ছয় মাস বয়স থেকেই ডিমসহ অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার ধীরে ধীরে পরিচয় করানো হলে ডিম অ্যালার্জির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
আগে ধারণা ছিল, যেসব পরিবারের মধ্যে অ্যালার্জির ইতিহাস রয়েছে, তাদের শিশুকে এসব খাবার দেরিতে দেওয়া উচিত—অনেক ক্ষেত্রে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, এই দেরি অ্যালার্জি প্রতিরোধে কার্যকর নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা চালুর পর ছয় মাসের মধ্যে ডিম খাওয়ানো শুরু করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং শিশুদের মধ্যে ডিম অ্যালার্জির হার প্রায় ১৭ শতাংশের বেশি কমেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রায় ৭ হাজার শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, নতুন নির্দেশনার পর ছয় মাসে ডিম খাওয়ানো শুরু করার হার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে অ্যালার্জির হার ৯.২ শতাংশ থেকে কমে ৭.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছোট বয়সেই খাবারের সঙ্গে পরিচিত হলে সেটিকে নিরাপদ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে। ফলে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। একজিমা বা ত্বকের সমস্যা থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, সঠিক সময়ে নীতিমালা পরিবর্তন এবং তা বাস্তবায়ন করলে জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। নতুন এই তথ্য আগের প্রচলিত ধারণাকে সংশোধন করছে এবং দেখাচ্ছে যে, সময়মতো সঠিক খাবার পরিচয় করানোই শিশুদের অ্যালার্জি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।