
বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে তৈরি হওয়া ভিসা জটিলতা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এসব সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ফিফা কোনো দেশের সরকার নয় এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা একটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিতে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার তাদের নেই।
ইনফান্তিনোর মতে, ফিফা সব সময় সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে, কিন্তু কোনো দেশের সরকার, সীমান্ত কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নিয়েই সংস্থাকে কাজ করতে হয় এবং নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সম্প্রতি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করলেও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ইনফান্তিনো।
ভিসা জটিলতা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে নীরবে কূটনৈতিকভাবে কাজ করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। তার ভাষায়, সব সমস্যার সমাধান উচ্চস্বরে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হয় না; অনেক সময় পর্দার আড়ালে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করলেই ইতিবাচক ফল আসে।
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানান ফিফা সভাপতি। যদিও এবারের টুর্নামেন্টকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বেশ জটিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে সব জটিলতা সত্ত্বেও ইরান জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেয়েছে। দলটি বর্তমানে মেক্সিকোতে অনুশীলন করছে এবং ম্যাচের সময় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলে আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসবে। ইনফান্তিনো বলেন, এই ধরনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিফা নীরবে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অনেক বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করা সম্ভব না হলেও ফিফা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সমাধান বের করার চেষ্টা করছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে সব দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফা কোনো কাল্পনিক জগতে নয়, বাস্তব পৃথিবীতেই কাজ করে। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির মতো বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্বকাপকে সফল করতে এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফিফা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।