
মেক্সিকোর কিংবদন্তি অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আসরের ২৩তম সংস্করণ নানা দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ, যেখানে তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজকের দায়িত্ব পালন করছে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুরু থেকেই ছিল সংগীত, সংস্কৃতি ও বিনোদনের মনোমুগ্ধকর মেলবন্ধন। অনুষ্ঠানের প্রথম পরিবেশনা করে জনপ্রিয় মেক্সিকান পপ-রক ব্যান্ড মানা। ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যান্ডটির প্রাণবন্ত পরিবেশনা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়।
এরপর মঞ্চে আসেন ভেনেজুয়েলার জনপ্রিয় গায়ক ও গীতিকার ড্যানি ওশান। ইউটিউবকে কেন্দ্র করে সংগীতজীবন শুরু করা এই শিল্পী ‘পার্তিদাজো’ গান পরিবেশন করেন ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান পোশাকে সজ্জিত নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে। তার পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করে এবং অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
পরবর্তীতে মঞ্চ মাতান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী জে বালভিন। একের পর এক পরিবেশনায় অনুষ্ঠান জমে উঠলেও দর্শকদের মূল অপেক্ষা ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম পরিচিত মুখ শাকিরার জন্য। অবশেষে যখন কলম্বিয়ান এই পপ তারকা মঞ্চে ওঠেন, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘লেটস গো’ পরিবেশন করেন শাকিরা। তার কণ্ঠের সঙ্গে গলা মেলায় হাজারো দর্শক। ঝলমলে আলোকসজ্জা, আতশবাজির প্রদর্শনী এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম মুহূর্তেই পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবমঞ্চে। শাকিরার প্রাণবন্ত নৃত্য ও মুগ্ধকর পরিবেশনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে নিয়ে যায় অন্য এক উচ্চতায়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মাঠের কেন্দ্র থেকে উঠে আসে বিশ্বকাপ ট্রফির বিশাল প্রতিরূপ। পাশাপাশি শত শত নৃত্যশিল্পী রঙিন পরিবেশনার মাধ্যমে মেক্সিকোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরেন। বর্ণিল এই আয়োজন বিশ্বকাপের সূচনাকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
শাকিরার পরিবেশনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা, যার মাধ্যমে শুরু হয় ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের লড়াই।