
ফিফা বিশ্বকাপ এলেই যেন ইনজুরির সঙ্গে নতুন করে লড়াই শুরু হয় নেইমারের। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা ফুটবলারের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের সঙ্গে চোটের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। ২০১৪ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুতর ইনজুরিতে পড়ে সেমিফাইনাল মিস করেছিলেন তিনি। পরবর্তী দুই বিশ্বকাপেও শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়তে হয়েছে তাকে। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই আবারও সেই দুঃসংবাদ ঘিরে ধরেছে ব্রাজিল শিবিরকে।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ম্যাচের মাত্র একদিন আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী ম্যাচে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
ফরাসি ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফুটমেরকাতোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমার এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলের স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় তার প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনার চেয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পান ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। পরবর্তীতে জাতীয় দলের মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানিয়েছিল, সুস্থ হতে তার অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। যদিও সেই সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, তবুও তিনি এখনও মূল দলের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি।
বর্তমানে ব্রাজিল দল নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নেইমারকে দেখা গেছে আলাদা ফিটনেস সেশনে। জিমে ও সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এতে করে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমারকে ঝুঁকি নিয়ে খেলানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হতে পারে।
দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর অনেক আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফিরেছিলেন নেইমার। নিজেও এই আসরকে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে উল্লেখ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন সমর্থকদের উদ্দেশে। তাই বিশ্বকাপের শুরুতেই তার অনুপস্থিতির সম্ভাবনা ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
তবে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা আপাতত নেই। ব্রাজিল দলের মেডিক্যাল বিভাগের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রথম ম্যাচে না খেলতে পারলেও ১৯ জুন হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ কিংবা ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে নেইমারের।
এখন ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা, কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরবেন তাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা। কারণ শিরোপা জয়ের স্বপ্নপূরণে নেইমারের উপস্থিতি এখনও সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।