
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘বি’-তে আকর্ষণীয় এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সহ-আয়োজক কানাডা ও ইউরোপের প্রতিনিধি বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা দুই দলই জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রথমবারের মতো একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবে কানাডা ও বসনিয়া।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি কানাডার তৃতীয় অংশগ্রহণ। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেললেও তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল উত্তর আমেরিকার দেশটিকে। সেবার তারা কোনো গোলও করতে পারেনি। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে ব্যর্থ হয় কানাডা। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনও জয়ের স্বাদ পায়নি দলটি। এবার ঘরের মাঠে আয়োজিত আসরে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া কানাডিয়ানরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার ফুটবলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলটির পারফরম্যান্স আশাবাদী করেছে সমর্থকদের। আক্রমণাত্মক ফুটবল, গতি এবং তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে গড়া বর্তমান স্কোয়াডকে কানাডার ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা আলফনসো ডেভিস। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া এই ডিফেন্ডার-উইঙ্গার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে রয়েছেন গোলস্কোরিং দক্ষতার জন্য পরিচিত জনাথন ডেভিড। বসনিয়ার বিপক্ষে এই দুই তারকার পারফরম্যান্সই কানাডার সাফল্যের বড় চাবিকাঠি হতে পারে।
অন্যদিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা বিশ্বকাপ খেলছে দ্বিতীয়বারের মতো। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া দলটি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও ইরানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম সাফল্য অর্জন করেছিল। এবার আরও পরিণত দল হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে তারা।
বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে বাছাইপর্ব ও প্লে-অফে দারুণ লড়াই করেছে বসনিয়া। বিশেষ করে শক্তিশালী ইতালিকে হারিয়ে মূল পর্বে ওঠা দলটির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এডিন জেকো এখনও দলের সবচেয়ে বড় তারকা এবং আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র। তার অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষমতা কানাডার রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
ম্যাচটি যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে ঘরের মাঠের সমর্থন, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে কানাডাকে। অন্যদিকে বসনিয়ার অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতাও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর এই লড়াইয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয় খুঁজবে কানাডা, আর বসনিয়া চাইবে জয় দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ ও উপভোগ্য একটি ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।