
পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাঁদসহ চার হরিণ শিকারীকে আটক করেছেন বন বিভাগের সদস্যরা। এ সময় শিকারে ব্যবহৃত একটি ট্রলারও জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টহল দল নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় শেলারচর টহল ফাঁড়ির অধীন ছাপড়াখালী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। টহলের সময় বনরক্ষীরা বনের ভেতরে হরিণ ধরার জন্য পেতে রাখা একাধিক ফাঁদের সন্ধান পান।
পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন সোলায়মান হাওলাদার (৪০), রাসেল (৩৮), নয়ন বিশ্বাস (১৭) এবং নুর আলম (১৮)। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামে।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলের কাছের একটি খাল থেকে শিকারিদের ব্যবহৃত একটি ট্রলারও জব্দ করা হয়। বন বিভাগের ধারণা, ট্রলারটি ব্যবহার করে তারা বনের ভেতরে প্রবেশ করে শিকারের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
এদিকে একই দিনে সুন্দরবনের সুপতি বনাঞ্চলের ডোরা এলাকার একটি সাইডখালে পৃথক অভিযানে তিন জেলেকে আটক করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে তাদের হাতে-নাতে আটক করেন বনরক্ষীরা। এ সময় একটি ট্রলার ও মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়।
আটক জেলেরা হলেন হিরু (৪০), আলমগীর (৩৫) এবং তামীম মৃধা (১৯)। তাদের বাড়ি বরগুনা জেলার ছোটপাথরঘাটা এলাকায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, শেলারচরের ছাপড়াখালী এলাকায় ফাঁদসহ আটক হরিণ শিকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামিদের বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী ধ্বংসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।