
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, যেখানে তার পেনাল্টি মিস আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে দেয়। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, জাতীয় দলের অধ্যায় তার জন্য শেষ।
কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে মেসির গল্পও। অবসর ভেঙে ফিরে এসে তিনি গড়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য এক অধ্যায়। আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন কোপা আমেরিকার শিরোপা এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। সেই আসরেই সাত গোল করে ফাইনালে দুই গোলসহ দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে এসে মেসি যেন নিজের রেকর্ড বই নিজেই নতুন করে লিখছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। প্রথমে ১৭ গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যান এবং পরে আরও এক গোল যোগ করে সংখ্যাটা ১৮-তে নিয়ে যান।
ম্যাচের শুরুটা ভালো না হলেও, পেনাল্টি মিস করার পরও দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে এবং যোগ করা সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে আবারও প্রমাণ করেন কেন তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন।
এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলা বিরল কীর্তিও অর্জন করেছেন। পাশাপাশি টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজিরও গড়েছেন, যা ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়েরই রয়েছে।
মেসির পরিসংখ্যান আরও বিস্ময়কর—বিশ্বকাপে ২৮ ম্যাচে ১৮ গোল, যার বেশিরভাগই এসেছে ৩৫ বছর পার করার পর। শুধু গোল নয়, সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রেও তিনি ইতিহাসের শীর্ষে, ৭৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।
তবে রেকর্ডের এই গল্পে আছে কিছু ব্যর্থতাও। বিশ্বকাপে তিনটি পেনাল্টি মিস করে তিনি এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের অংশ হয়েছেন। তবুও প্রতিটি ব্যর্থতার পরই তিনি ফিরে এসেছেন আরও শক্তিশালী হয়ে।
অবসর থেকে ফিরে এসে মেসির এই যাত্রা এখন শুধুই একজন খেলোয়াড়ের নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। সামনে আরও রেকর্ড ভাঙার সুযোগ অপেক্ষা করছে তার জন্য, আর বিশ্ব ফুটবল তাকিয়ে আছে তার পরবর্তী জাদুর দিকে।