প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 23, 2026 ইং
শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের মামলার প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর দুদক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সচিব, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে পূর্বের বৈধ দরপত্র বাতিল করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক প্রক্রিয়ায় মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা আলোচনা ছাড়াই চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে মোট আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটির বেশি টাকা বিল গ্রহণ করে বলে তদন্ত সংস্থার অভিযোগ।
অন্যদিকে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল আদায়ে ব্যয় ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। পরবর্তী সময়ে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান কম ব্যয়ে চুক্তি সম্পন্ন করায় আর্থিক ব্যবধানের বিষয়টি সামনে আসে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া একক উৎসভিত্তিক চুক্তি দেওয়ার কারণে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।