
বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করেছে ঘানা। বস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রক্ষণভাগে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তিকে হতাশ করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ইংল্যান্ড। আক্রমণভাগে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম ও বুকায়ো সাকাদের নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। পুরো ম্যাচে ১৯টি শট নিলেও মাত্র তিনটি লক্ষ্যভেদী ছিল।
অন্যদিকে ঘানা তুলনামূলক কম আক্রমণে গেলেও রক্ষণভাগে ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জন্য মূল্যবান একটি পয়েন্ট নিশ্চিত করেন।
এই ম্যাচে মাঠে নেমে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন। মাত্র ২২ বছর ৩৫৯ দিন বয়সে তিনি দেশের হয়ে ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন, যা ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি।
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ডেক্লান রাইসের ফ্রি-কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আর বিরতির আগে হ্যারি কেইনের প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। প্রথম ৪৫ মিনিটে ছয়টি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় ইংলিশরা। ৫৮তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন আসারে। পরে হ্যারি কেইনের দূরপাল্লার শটও প্রতিহত করেন ঘানার গোলরক্ষক।
ম্যাচের শেষদিকে ইংল্যান্ড গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৮৬তম মিনিটে বুকায়ো সাকার শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন আসারে। এক মিনিট পর নিকো ও’রাইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে কাছ থেকে সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন কেইন।
দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ঘানা। ফলে শেষ ম্যাচের আগে নকআউট পর্বের লড়াই আরও জমে উঠেছে।
ম্যাচ শেষে ঘানার খেলোয়াড় ও কোচ কার্লোস কেইরোসের উচ্ছ্বাসই বলে দিয়েছে, শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ড্র তাদের কাছে জয়ের সমান। আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে পানামার, আর ঘানা খেলবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।