
রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার একটি মানবিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিশু সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা প্রদান করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে সই করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত অর্থ শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করবে ইউনিসেফ। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরের পাশাপাশি আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অর্থায়ন ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ঘোষিত অস্ট্রেলিয়ার ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তা প্রদান করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।