
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্রীড়াভিত্তিক গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস তাদের একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনোফোবিয়া: দলটিকে শান্তিতে জিততেও দেয়া হয় না, হারতেও নয়’। মূলত এক বিশ্লেষকের কলাম সেটি। যেখানে বলা হয়েছে, রেফারিং ও ভিএআরকে জড়িয়ে আর্জেন্টিনা সুবিধা পেয়েছে বলে মূলত অপপ্রচার করা হয়েছে।
আন্দ্রেস বার্গো নামের ওই সাংবাদিক লিখেছেন, গত ৪০ দিনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরে যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা ছিল অন্যায্য। বিশ্বকাপ চলাকালে দলটির প্রতিটি ম্যাচই ছিল তীব্র নজরদারির মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের একটি বড় অংশ অভিযোগ তোলে যে, আর্জেন্টিনা নাকি রেফারি ও ভিএআরের সুবিধা পেয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। ‘আর্জেনফিফা’,
‘ইনফান্তিনো মেসির হাতে কাপ তুলে দেবেন’—এ ধরনের মন্তব্য কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ থেকেই বারবার শোনা গেছে।
তবে এবার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে পরাজয়ের পরও সমালোচনা থামেনি। যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের একাংশ দাবি করে, আর্জেন্টিনা নাকি হেরে গিয়ে ‘পরাজয়ের পর অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করেছে’ এবং স্পেনের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। অর্থাৎ, দলটি যেমন জিতলেও সমালোচিত হয়, হারলেও রেহাই পায় না।
ফাইনালের পর লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের দিকে তেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, এর আগে স্পেনের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে উসকানিমূলক মন্তব্য এসেছিল, তবুও এমন আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়।
তবে সমালোচকদের দ্বিমুখী অবস্থানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম আর্জেন্টিনার কলোরাডো বারকোকে মাথায় আঘাত করলেও তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। একইভাবে, ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড গোল উদ্যাপনের সময় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও তাকে ‘অহংকারী বিজয়ী’ বলা হয়নি।
স্পেন যখন বিশ্বকাপ ট্রফি গ্রহণ করছিল, তখন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা নিজেদের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে মাঠের অন্য প্রান্তে চলে যান। কেউ কেউ ট্রফি উদ্যাপনের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, আবার অনেকে দূর থেকে পুরো দৃশ্য দেখেছেন।
প্রতিবেদনের মতে, আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষের শিরোপা উদ্যাপন প্রত্যক্ষ করা মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। তাই কেউ যদি সেই মুহূর্ত এড়িয়ে যেতে চান, সেটিকে অসম্মান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা কী করেছিলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তারা মাঠে ছিলেন নাকি ড্রেসিংরুমে ফিরে গিয়েছিলেন; সেটিও গুরুত্ব পায়নি। কারণ, পরাজয় প্রত্যেকে নিজের মতো করেই সামাল দেন।
একইভাবে, স্পেনের শিরোপা উদ্যাপন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা দেখেছেন কি না, সেটি অসম্মানের প্রমাণ হতে পারে না। বরং ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন, স্পেনই ছিল ফাইনালের যোগ্য ও প্রাপ্য চ্যাম্পিয়ন।