প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 31, 2026 ইং
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, ফোনে স্ত্রীর শেষ কথা

প্রমোদ পোদেল নেপালের ‘সোলে’ নামক একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড় হন। ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং সেখানকার নাগরিকত্ব লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি পূর্ব সাসেক্সের আকফিল্ড এলাকায় বসবাস করেন এবং সেখানে নেপালি স্ট্রিট ফুড ও ফুড ট্রাকের ব্যবসা পরিচালনা করেন। মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী প্রমোদ পোদেল। বিয়ের পর তার স্ত্রী সুমিত্রা সাপকোটা নেপালে প্রমোদের পরিবারের সঙ্গেই থাকছিলেন এবং খুব শিগগিরই তার প্রমোদের কাছে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াল পাহাড়ি ঢল ভাসিয়ে নিয়েছে সব স্বপ্ন, সব আশা।
বিপর্যয়ের খবর পেয়ে প্রমোদ পাগলের মতো ছুটে এসেছেন নেপালে। মেট্রো ইউকের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব সাসেক্সের বাসিন্দা প্রমোদ পোদেল জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৪টায় সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। ফোনে তার স্ত্রী তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছ? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ স্ত্রীর শেষ কথাগুলোই এখন প্রমোদের কানে বাজে।
প্রমোদের জন্য একমাত্র স্বস্তির খবর হলো, তার বাবা পুরুসোত্তম পোদেল অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এবং তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রমোদের বাবা বেঁচে ফিরলেও তার স্ত্রী সুমিত্রা (২৫), মা তুলসা (৫২), ভাই প্রদীপ (৩১) এবং চাচা মাধব প্রসাদ পোদেল (৬৪) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রমোদ নেপালে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
দ্য সান-কে প্রমোদ বলেন, ‘আমি তাদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, তবে একই সঙ্গে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করছি।’
এর আগে বিবিসি রেডিও সাসেক্সের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার পরিবার এবং আমার দেশের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সময়, তবে সেখানে আসলে কী ঘটছে তা দেখার জন্য অবশ্যই আমাকে যেতে হবে।
তিনি বিবিসিকে আরো বলেন, ‘সেখানে আসলে কী ঘটেছে তা কেউ জানে না। স্পষ্টতই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং কারা নিখোঁজ হয়েছেন বা কোথায় আছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না এবং সব সেতু ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত করারও কোনো উপায় নেই।’
প্রমোদ আরো যোগ করেন, ‘সেখানে কোনো বিদ্যুৎ নেই, তাই আমি কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আসলে কী ঘটছে তা না জানতে পারাটা খুবই কষ্টের একটি সময়।’
নেপালে পৌঁছে প্রমোদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্যা ও কাদাঝড় এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তার পরিবারের ঘরবাড়ি তো ভেসে গেছেই, এমনকি যে স্থানে তাদের বাড়িটি ছিল, সেখানে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুরো সোলে গ্রামটিই প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com