প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 17, 2026 ইং
১০.৫০ টাকা হারে সৌরবিদ্যুৎ কিনছে সরকার, মানতে হবে যেসব শর্ত

ছাদে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপন করে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। এ সুবিধা পেতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সোলার সিস্টেম স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের আওতায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ শুরু করতে হবে।
নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী গ্রাহকরা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক প্রচারণামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর এসংক্রান্ত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনটি একই দিন থেকে কার্যকর হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ সুবিধা পেতে প্রথমে ছাদের কতটুকু জায়গা সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী তা নির্ধারণ করতে হবে।
এরপর নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটার স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আগে নিজস্ব চাহিদা পূরণ করা যাবে; এরপর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।
গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করবে। এ বিদ্যুতের মূল্য ও প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবে সরাসরি পাঠানো হবে। প্রতি তিন মাস পরপর অর্থ পরিশোধ করা হবে; কোনো অবস্থাতেই নগদে এ অর্থ দেওয়া হবে না।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর স্থাপিত সোলার সিস্টেম এ বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আসবে না। একই সঙ্গে সিস্টেমে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com