
জাতীয় পার্টির ব্যানারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সারাদেশে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
পোস্টে আবু হানিফ জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় দলটির ভূমিকা ছিল। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অন্য কয়েকজন সহযোগী রাজনৈতিক নেতাকে কারাগারে যেতে হলেও জাতীয় পার্টির নেতাদের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি।
আবু হানিফের দাবি, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির নামে অনুষ্ঠিত সভা-সমাবেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। তাঁর মতে, এসব কর্মসূচির আড়ালে আওয়ামী লীগের নেতারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের নামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন, তার পরিকল্পনাও জাতীয় পার্টির ব্যানারে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পোস্টে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও এ অভিযোগের কোনো বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
নিজের পোস্টে জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন আবু হানিফ। তাঁর দাবি, জি এম কাদের বলেছেন, মাঝেমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথা হয় এবং শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এই বক্তব্যের ভিত্তিতে আবু হানিফ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় পার্টি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। তবে এটি আবু হানিফের অভিযোগ; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে আবু হানিফ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির বিচারের দাবি জানানো হলেও সে সময় সরকার বিষয়টিতে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আবু হানিফের এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ ও দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।